ইশতেহার
১গঠনতন্ত্র সংশোধন
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির অনুপযোগী গঠনতন্ত্র সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হবে। কোনোক্রমেই যেন দুষ্টচক্র গঠনতন্ত্রের ফাঁকফোকরে ভুয়া সদস্য/ভোটার করা, আর্থিক তছরুপ, স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে না পারে।
২স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
প্রতি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো রকম স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে কাজ করা হবে না। কোনো সদস্যকেই গালমন্দ বা হুমকি প্রদান করা বা মব সৃষ্টি করে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করা হবে না।
আফতাবনগরের সমস্যা সমাধানকল্পে সকল সদস্যের মতামত নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ক্ষেত্রেই লুকোচুরি বা গোপন করা হবে না বা স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
গঠনতন্ত্রের ধারা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
৩সকল ফ্ল্যাট মালিককে জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির সদস্য করা
একজন জমির মালিকের মতো ফ্ল্যাট মালিকও পরিমাণে কম হলেও জমির মালিক। তিনিও পরিবার-পরিজনসহ এ সোসাইটিতে বসবাস করবেন। ফলে সোসাইটিতে তাঁর অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সদস্য হওয়ার দাবিদার। তাছাড়া সদস্য সংখ্যা বেশি হলে যেকোনো ন্যায়সংগত দাবি আদায় করা সহজ হয়। জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল ফ্ল্যাট মালিককে সদস্য করা হবে।
৪সাধারণ সভা আয়োজন
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির গঠনতন্ত্রের ধারা ১০ এর উপধারা (গ) অনুযায়ী প্রতি বছর সাধারণ সভার আয়োজন করা হবে। সাধারণ সভায় সকল সদস্যের অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সোসাইটির এলাকার মধ্যে সাধারণ সভা আয়োজন করা হবে। সাধারণ সভার পূর্বে প্রতিটি সদস্যের নিকট অডিট রিপোর্ট প্রেরণের ব্যবস্থা করা হবে।
৫মশক নিধন ও রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম
নিয়মিত মশা নিধনের লক্ষ্যে লার্ভা ধ্বংস, ড্রেন, নালা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ কার্যক্রম গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৬বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রম
নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলা, রাস্তাসহ উন্মুক্ত স্থান, খালি প্লট ও অপরিচ্ছন্ন স্থান পরিষ্কার রাখা, নির্মাণাধীন ভবনের ধুলোবালি ও শব্দদূষণের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে তদারকি জোরদার করা হবে।
৭ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু
ডিজিটাল অ্যাপভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে জরুরি যোগাযোগ, নিরাপত্তা সহায়তা, অভিযোগ গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৮সিকিউরিটি ব্যবস্থা উন্নতকরণ
চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, মাদক সেবন ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যক্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের সাথে সমন্বয় করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যথা: সীমানা বেষ্টনী প্রদান, প্রতিটি প্রবেশ পথে নিরাপত্তা কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি, বাড়ির মালিকদের সাথে আলোচনাক্রমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রতিটি রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৯পরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা
পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, ফুটপাথ নির্মাণ, সড়কবাতি, আইল্যান্ডে ফুল গাছ রোপণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সকল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০যানজট নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পিত পার্কিং
সকল ধরনের যানবাহন, বিশেষ করে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১১শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যক্রম গ্রহণ
সোসাইটির সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে:
(ক) কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধনা, মেধাবৃত্তি, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের ব্যবস্থা করা হবে।
(খ) জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক, সৃষ্টিশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১২ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ
(ক) পাঠাগার স্থাপন: এলাকার শিক্ষার্থীদের বিকাশ তথা বই পাঠের আগ্রহ তৈরি, প্রবীণদের অবসর সময় কাটানোর জন্য পাঠাগার স্থাপন করা হবে।
(খ) খেলাধুলার আয়োজন: জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির সদস্যদের জন্য ইনডোর ও আউটডোরে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।
(গ) ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন: জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির এলাকার মধ্যে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
১৩কবরস্থানের ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠা
বিগত ১২ বছরে আফতাবনগরবাসীর জন্য কবরস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। ইনশাআল্লাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে কবরস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
১৪মসজিদ নির্মাণ ও মসজিদ উন্নয়নের ব্যবস্থা
(ক) প্রতিটি ব্লকে মসজিদ নির্মাণ ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে অগ্রাধিকারভিত্তিতে মসজিদ নির্মাণ ও মসজিদ উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে।
(খ) মসজিদ পাঠাগার স্থাপন: ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কথা বিবেচনা করে প্রতিটি মসজিদের সাথে একটি করে মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হবে।
১৫সোসাইটি ভবন নির্মাণ
সুদীর্ঘ ১২ বছরে সোসাইটির নিজস্ব ভবন নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। আফতাবনগরের মধ্যবর্তী স্থানে কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার, পাঠাগার, মেডিকেল সার্ভিস, সদস্যদের নিয়মিত বসার স্থানসহ যুগোপযোগী সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বহুতল সোসাইটি ভবন নির্মাণ করা হবে।
১৬আফতাবনগর পুলিশ স্টেশন প্রতিষ্ঠা
আফতাবনগরের জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে আফতাবনগর পুলিশ স্টেশন প্রতিষ্ঠা একান্ত আবশ্যক। সে লক্ষ্যে আফতাবনগর এলাকার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুলিশ স্টেশন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা করা হবে।
এছাড়া প্রয়োজনের তাগিদে আফতাবনগরবাসীর সুবিধার্থে অগ্রাধিকারভিত্তিতে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
